Posts

মুজুর হুজুর এক রবে

মুজুর হুজুর এক রবে সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী (আগরতলা ২৫/১০/২০২১ ) কৃষক কাঁদিয়া কহে বিনীত চিত্তে, আমি কি শুধুই ফসল ফলাবো অংশ কি নাই কোনো বিত্তে ? জমির মালিক ইসৎ হাসিলেন বলিলেন কিযে বলিস তুই, আমার জমি আমারই ফসল আমরই হবে ভুঁই ? কৃষক আবারো বিনীত হইয়া কহিলেন তাই যদি হয়, কালকে থেকে মাঠে যাবোনাকো কপালে যাহাই রয়  | মালিক একটু থামিলেন বটে ভাবিলেন বেটা কিযে আজ বলে, মালিকের কথা উপেক্ষার ফল বুঝাবো তাহলে ! কৃষক বলিলো তবে যাই হুজুর মুজুর ভাবিলেন ভুলে, আমিও একটু দেখিবার বাকি কি করে আপনার চলে  | আমার পাওনা আমি যদি পাই আমারই হিসাব মতো, তাহলেই চলিবে না হয় বন্ধ আজ থেকে অবিরত  | ভীষণ বিপদ আসন্ন বুঝিয়া হুজুর বলিলেন তোমার কথাই ঠিক, আজ হতে তুমি ন্যাহ্য পাবে হবেনাতো এদিক ওদিক  | খানিকটা ভাবিয়া কৃষক কহিলেন অন্যথা যদিগো হবে, আপনার বৃত্ত আপনিই সামলাবেন অমনি পরিয়া রবে  | সেই খবর বাতাসে ভাসিয়া লাগিলো সবার কানে, মুজুর হুজুর এক রবে তবে আজ হতে তফাৎ রবেনা কোনোখানে  |

প্রসঙ্গ মৌলবাদী

মৌলবাদী একটা রোগের নাম | পৃথিবীতে এ যাবৎ যতো রোগ চিহ্নিত হয়েছে এর মধ্যে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক  | এইটি যদি কাউকে ছুঁয়ে ফেলে তার চরিত্র হয় গোয়ার পশুর মতো  | কাগজে লেখা কিছু ধর্ম কাব্যকে পুঁজি করে তারা উগ্র হয়ে উঠে  | দেশে দেশে তার এখন রমরমা  | অনেকেতো এর উপর ভরসা করে স্বর্গ, বেহেস্ত ছুঁই ছুঁই করছে  | ওখানে আবার একটু বাড়তি পাওয়ার চিন্তা আছে  | জন প্রতি ৭২ হুর  | অথচ পৃথিবীতে এক হুরের যন্ত্রনায় অনেকে অতিষ্ট  | 

একটি আলোচনা

##আলোচনা / সমালোচনা :--- সেন্টু চক্রবর্তী পশ্চিম বঙ্গের একজন কবি। তাঁর কবিতার সাথে ইতোপূর্বে আমার বিশেষ পরিচিতি ছিল না। হঠাৎ একটি সাহিত্য গ্রুপের ওয়াল থেকে তাঁর ‌এই কবিতাটি ‌হাতে‌ এলো। "'বড় বিষজ্বালা এই মনে'"-- কবিতাটি পাঠ কালে পাঠক নিবিষ্ট ভাবে একেবারে কবিতার গভীরে চলে যান। কবিতার ভাব এবং ভাষাই টেনে নিয়ে যায়-- যেন যেতেই হবে গভীরে। কী একটা মোহাবিষ্টতা আছে ‌কবির কাব্য ভাষায়। সমাজের প্রচলিত হয়ে আসা অন্যায় , অসত্যের বিরুদ্ধে কবির  লেখনী সোচ্চার হতে দেখা যায়- অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাবে। এখানে তাঁর কোনো আড়ষ্টতা নেই, জড়তা নেই। কবি সব জাল ছিন্ন করতে চান। কবির কাব্য নির্মাণে ,, বিদ্রোহের সুরে নজরুলের প্রভাব বেশ সুস্পষ্ট। কবিতার শিরোনাম আকৃষ্ট করে তোলে-- বোধহয় এ কিছু বলতে চায়। "' আমার বুকে আগ্নেয়গিরি ঘুমায় বড় বিষজ্বালা এই মনে"' -- এমনি অগ্নিবীণা সম ভাষার ‌ স্ফুলিঙ্গে  কবির প্রতিবাদী ভাষার  শুরু । কবি কারো কাছে করুণা চান না।কারণ তাঁর আছে একরাশ ঘৃণার বারূদ। এই ঘৃণার বারূদ দিয়ে তিনি পুড়িয়ে ফেলতে চান অত্যাচার, অনাচারের আশ্রয়কে...

নিরু

নিরু সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী (আগরতলা ১৯/১০/২০২১) বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ) নিরু তুমি বাজাও বাঁশি রোমতো পুড়ে ছাই, তোমার বাঁশি পুড়বে কবে সে দিন গুনে যাই  | আগুন দেখে হাসছো তুমি পাচ্ছো মনে সুখ, জেনে রেখে দরজায় তোমার মারছে টোকা দুখ  | কষ্টের রাতি প্রভাত হবেই সূর্য্য দেবে উঁকি, তোমার কষ্ট দেখবে সবাই থাকবেনা কেউ বাকি  | সেদিন তোমার কি যে হবে এই ভাবনায় আছি, কাঁদাও যতো কাঁদবে অধিক খনা গেছেন রচি  |

বিশ্বপুঁজির কারা

বিশ্বপুঁজির কারা সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী (আগরতলা ২৩/১০/২০২১ ) ওরে মূর্খ ইতর চামার কি ধর্মরে তোর? মানুষ কাঁদিয়ে কারে খুঁজিস তুই ভন্ড বদমাস চোর ? রক্ত ঝরালি প্রাণ কেড়ে নিলি বুকে নিলি তুলে বাইবেল, গীতা,ত্রিপিটক ও কোরান, এসব তো মানুষের লেখা কি আছে তাতে ? খুঁজে দেখনা বিজ্ঞান  | মানুষই যদি হবিরে তবে মনুষত্ব তোর কই, স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে যেতে বানালি লাশের মই  | বাকির বাণিজ্য বোকারাই করে অধিক লাভের আশার লোভে, মৃত্যুর পরে হুর পরী পাবি সেটি কি মূর্খতা নয় তবে ? যেদিন তুই পৃথিবীতে এলি কি ছিলো তোর পরিচয় ? হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ না খ্রিস্টান জানা দরকার আছে নিশ্চয় | মানুষের মাঝে বিভেদ করেছে পুঁজিবাদী চতুর যারা, মূর্খরা শুধুই অবনত মাথায় বরণ করেছে বিশ্বপুঁজির কারা  |